ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৩, জুলাই ২০২৬ ৪:০০:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জামায়াত এমপির ভিডিওকাণ্ড: তদন্ত দাবি তাসনিম জারার সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ২৪০ টাকা ছাড়াল তিস্তার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ছুঁই ছুঁই তনু হত্যা মামলায় আরও দুই সন্দেহভাজনের ডিএনএ সংগ্রহের নির্দেশ রাহুল-প্রিয়াঙ্কা আটকের ২ ঘণ্টা পর মুক্ত গৌরনদীতে আবাসিক মাদ্রাসা ভবনে ঝুলছিল ছাত্রীর লাশ

শুরুতেই বিতর্কের মুখে পোস্টাল ব্যালট 

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:২৯ এএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভোট শুরুর আগেই পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে একটি বাসায় কয়েক ব্যক্তির কাছে অনেক ব্যালট পেপার দেখা গেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে এসেছে বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস নিয়েও আপত্তি জানানো হয়েছে।

অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অনেক পোস্টাল ব্যালট কয়েকজন মিলে গুনছেন। পোস্টাল ব্যালটের খামে ঠিকানা লেখা রয়েছে বাহরাইনের। দেশে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা অনেক আগে থেকে চালু থাকলেও প্রথমবারের মতো প্রবাসী ভোটারদের ভোট দেওয়ার জন্য এই ব্যবস্থা চালু করেছে ইসি।

নিয়ম অনুযায়ী, নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দিরা এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে পারেন। তবে অতীতে এই ব্যবস্থায় ভোট দিতে তেমন একটা আগ্রহী ছিলেন না অনেকেই। আগে আইন থাকলেও সুযোগ ছিল সীমিত। এবার ‘আইটি সাপোর্টেড পোস্টাল ব্যালটে’ ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ইসি। এ জন্য নির্বাচনী আইনেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৫ জানুয়ারি ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন শেষ হয়।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ৩০০ সংসদীয় আসনে আগামী নির্বাচনের জন্য মোট ১৫ লাখ ২৭ হাজার ১৫৫ ভোটারের পোস্টাল ভোট নিবন্ধন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসী সাত লাখ ৬০ হাজারের কিছু বেশি। বাকিরা দেশ থেকে নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে পৌনে ছয় লাখ সরকারি চাকরিজীবী, প্রায় এক লাখ ৬০ হাজার নির্বাচনী কর্মকর্তা, ১০ হাজার আনসার-ভিডিপির সদস্য এবং ছয় হাজারের কিছু বেশি কারাবন্দি রয়েছেন।

ইসির সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে, তবে শেষ হয়নি। ২০ জানুয়ারি প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর অ্যাপসের মাধ্যমে নিবন্ধিত ভোটারদের সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী ও প্রতীক জানানো হবে। এর পরই তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ১০ হাজারের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধিত হয়েছেন– এমন আসন রয়েছে ১৮টি। যেসব আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়, সেই আসনগুলোয় এই ভোট ফল নির্ণায়ক হতে পারে। ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে ১০ হাজার ভোটের কম ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়েছিল কমপক্ষে ৩০টি আসনে।

এদিকে, বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস (সিরিয়াল) নিয়ে ‘কৌশলগত পক্ষপাতিত্বে’র অভিযোগ তুলেছে বিএনপি। এ নিয়ে গত কয়েক দিন সামাজিক মাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার পর বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেওয়া হয়েছে গতকাল। বাহরাইনে পাঠানো পোস্টাল ব্যালট একটি দলের নেতার মাধ্যমে ‘হ্যান্ডেলের’ অভিযোগ তুলে ধরে বিএনপি আরও বলেছে, ইসিকে দ্রুতই এই ব্যালট সংশোধন করতে হবে। দেশে যেন এসব পোস্টাল ব্যালট ব্যবহার না করা হয়। 

ইসির নিবন্ধন অ্যাপের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১২১টি দেশে সাত লাখ ৬৭ হাজার ২৮ প্রবাসী নিবন্ধিত হয়েছেন। বিদেশে সব ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রার্থী চূড়ান্ত ও প্রতীক বরাদ্দ শেষে কয়েক দিনের মধ্যেই দেশের ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হবে।

ইসির ভোটার তালিকা অনুযায়ী আগামী নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পোস্টাল ভোটের জন্য নিবন্ধনের হার ১ শতাংশের মতো। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আসনভিত্তিক হিসাবে পোস্টাল ভোট খুব বেশি নয়। তবে কিছু আসনে এই ভোট ফল নির্ধারণে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

কোন আসনে কত পোস্টাল ভোট

আসনভিত্তিক নিবন্ধনে ফেনী-৩ আসন শীর্ষে। এখানে ১৬ হাজার ৯৩ ভোটার নিবন্ধন করেছেন। এরপরই চট্টগ্রাম-১৫ আসনে ১৪ হাজার ৩০১ জন নিবন্ধন করেছেন। জেলাভিত্তিক নিবন্ধনে শীর্ষে কুমিল্লা। সেখানে ১ লাখ ১২ হাজার ৯০ ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন। এরপর ঢাকায় ১ লাখ ৮ হাজার ৭৫৫ জন এবং চট্টগ্রামে ৯৫ হাজার ২৯৭ জন ভোটার পোস্টাল ভোটে নিবন্ধন করেছেন।

আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি-এসডিআই) প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, ‘ফেনী-৩ আসনে ১৬ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন। নির্বাচনের ফল নির্ধারণে পাঁচ হাজার ভোটই অনেক বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। দেশের ইতিহাসে এটিই প্রথম পোস্টাল ভোট এবং আমরা ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। ব্যালট পাঠানোর পর কী পরিমাণ ফিরে আসে, সেটি দেখার বিষয়। তবে আমরা আশাবাদী, ৯০ শতাংশের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেবেন।’

এ ছাড়া আসনভিত্তিক হিসাবে দেশ-বিদেশ মিলিয়ে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে ১০ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন– এমন আসন আছে ১৮টি। এর মধ্যে একটি ছাড়া সবকটি আসনই চট্টগ্রাম বিভাগে। সবচেয়ে বেশি নিবন্ধন হয়েছে ফেনী-৩ আসনে, ১৬ হাজার ৩৮ জন।

সাড়ে ১২ হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেছেন– এমন আসনগুলো হলো চট্টগ্রাম-১৫ (১৪ হাজার ২৭২), কুমিল্লা-১০ (১৩ হাজার ৯৩৮), নোয়াখালী-১ (১৩ হাজার ৫৯২), নোয়াখালী-৩ (১২ হাজার ৭৪৫) এবং ফেনী-২ (১২ হাজার ৫৪১) আসন।

১০ হাজারের বেশি ও সাড়ে ১২ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন– এমন আসনগুলো হলো কুমিল্লা-৪, ৫, ৬, ৯ ও ১১, সিলেট-১, চাঁদপুর-৫, নোয়াখালী-৪ ও ৫, ফেনী-১, কক্সবাজার-৩ ও লক্ষ্মীপুর-২।

পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে ১০ হাজারের কম ভোটার নিবন্ধন করেছেন– এমন আসন ৯৭টি। বাকি আসনগুলোতে পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা পাঁচ হাজারের কম। এর মধ্যে সবচেয়ে কম ১ হাজার ৫৪৪ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন বাগেরহাট-৩ আসনে।

এ ছাড়া ৪৬টি আসনে পাঁচ হাজারের বেশি এবং ৬৬টি আসনে চার হাজারের বেশি ভোটার নিবন্ধন করেন। সব মিলিয়ে ১১৬টি আসনে পাঁচ হাজারের বেশি পোস্টাল ভোট, যা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে সালীম আহমাদ খান এটাও বলেন, ১৫ লাখের বেশি ভোটার পোস্টাল ব্যালটের জন্য নিবন্ধন করলেও তাদের সবাই ভোট দেবেন, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে পোস্টাল ব্যালট না পৌঁছালে তা গণনা করা হবে না।

বিশ্লেষকরা কী বলছেন

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলি বলেন, যেসব আসনে পোস্টাল ভোট ১০ হাজার বা তার বেশি, সেখানে এই ভোট ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে এই ১০ হাজার ভোটের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ যদি একজন প্রার্থী পান, তাহলে তা ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আবদুল আলীম বলেন, কোনো আসনে পোস্টাল ভোট বেশি হলে ফলাফলে তা প্রভাব ফেলতে পারে। কেননা দেখা গেছে, কোনো একটি অঞ্চল বা আসনের প্রবাসী অনেক ভোটার একসঙ্গে কোনো একটি দেশে থাকেন এবং তারা একটি নির্দিষ্ট দল বা প্রতীকে ভোট দিয়ে থাকেন। তারা এতদিন ভোট দিতে পারেননি। ফলে এবার তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়ায় অঞ্চলভিত্তিক ভোটের ফলাফলে এটা বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, কোনো কোনো আসনে পোস্টাল ভোটের কারণে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হলে তখনও প্রার্থী বা দলগুলোর মধ্য থেকেও অভিযোগ উঠতে পারে। তবে পোস্টাল ব্যালটে ভোটের ক্ষেত্রে ইসি তার বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে পারবে বলে আশা করছি। 

পাশাপাশি পোস্টাল ভোট নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এক অনুষ্ঠানে পোস্টাল ব্যালটের এই চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে বলেছিলেন, বৈশ্বিকভাবে পোস্টাল ব্যালটের ওয়েস্টেজ বা নষ্ট হওয়ার হার ২৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রায় প্রতি চারটির একটি পোস্টাল ব্যালট গন্তব্যে পৌঁছায় না। 

এ ছাড়া আগে হাতে পেয়ে ভোট দিয়ে তা প্রকাশ করে দেওয়া হলে নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের শঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন অনেক বিশ্লেষক। তবে ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, আগে হাতে পেলেও পোস্টাল ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রতিটি ভোটারের দায়িত্ব। কেউ গোপনীয়তা লঙ্ঘন করলে তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করা হতে পারে।

কৌশলগত পক্ষপাতের অভিযোগ বিএনপির

গতকাল মঙ্গলবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল অভিযোগ করেছে, পোস্টাল ব্যালটে বিভিন্ন দেশে প্রবাসীরা ভোটার হয়েছেন। তাদের কাছে পাঠানো ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক আগে দেওয়া হয়েছে।প্রতিনিধি দলের প্রধান ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান পরে সাংবাদিকদের বলেন, পোস্টাল ব্যালট পেপারে পাঁচটি কলাম ও ১৪টি সারি রাখা হয়েছে। এতে তিনটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক প্রথম লাইনে এসেছে। অথচ বিএনপির প্রতীকটি মাঝখানে এমনভাবে রাখা হয়েছে যে কাগজ ভাঁজ করলে সেটা ভালো করে নজরেই পড়ে না। ইসি যদি পাঁচটা না করে ছয়টা কলাম করত বা ১৪টির জায়গায় ১২টি বা ১৬টি সারি করতে, তাহলে এই বিন্যাস হতো না। কাজেই এটা পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে বলেই আমরা মনে করি।

অবশ্য বৈঠকে ইসি কর্মকর্তারা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, প্রতীক বিন্যাসের বিষয়টি আলফাবেটিক্যালি (প্রতীকের নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী) করা হয়েছে। এর পরও বিএনপি নেতারা এটিকে ‘কৌশলগত পক্ষপাত’ উল্লেখ করে বৈঠকে দাবি করেন, দেশের ভেতরে যেসব পোস্টাল ব্যালট এখনও পাঠানো হয়নি, সেখানে যেন এই কৌশল আর প্রয়োগ না হয়। এটা যেন ঠিক করা হয়।

এদিকে বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণে অনিয়মের অভিযোগও করেছে বিএনপি। তাদের দাবি, ‘সেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা অনেক ব্যালট পেপার হ্যান্ডল করছেন– এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।’

নির্বাচন কমিশন বলেছে, বিষয়টি তাদের নজরেও এসেছে। তারা বাহরাইনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। সেখান থেকে রিপোর্ট এসেছে, এমন একটা ঘটনা তারা জেনেছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছে।

পোস্টাল ব্যালটে প্রতীক বিন্যাস নিয়ে বিএনপির অভিযোগ প্রসঙ্গে সালীম আহমাদ খান বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতীক তালিকা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পোস্টাল ব্যালটগুলো ছাপা হয়েছে। নামের আদ্যাক্ষর অনুযায়ী ১১৯টি প্রতীককে দুই পাতার মধ্যে আনতে গিয়ে যেখানে যে প্রতীক দেওয়া প্রয়োজন, সেটাই করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া অনেক স্তরের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগই নেই। তা ছাড়া যে ভোটার যে প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তিনি তো নিজের তাগিদেই প্রতীক খুঁজে নিয়ে সেই ঘরেই সিল মারবেন। ফলে কোন প্রতীক কোথায় ছাপা হলো, সেটি তো বড় বিষয় নয়। এখানে নিয়মের কোনো ব্যত্যয়ও হয়নি।

বাহরাইনের একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালট পাওয়া ও তার ভিডিওচিত্র ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে বাহরাইনের বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে ইতোমধ্যে কথা বলেছেন তারা। বাংলাদেশ দূতাবাস দেশটির পোস্টাল বিভাগের সহযোগিতায় বিষয়টির সমাধানও করে ফেলেছে। তিনি বলেন, মূল বিষয়টি ছিল– সেখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কেউ কেউ পোস্টাল ব্যালটগুলো যার যার ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়ে ডাককর্মীদের কাছ থেকে সব একত্রে বুঝে নিয়েছিলেন। পরে এটি জানাজানি ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর বাংলাদেশ দূতাবাসের হস্তক্ষেপে সব ব্যালট বুঝে নিয়েছেন তারা। এখন নিজেরাই আলাদাভাবে সবার ঠিকানায় পৌঁছেও দিচ্ছেন। সার্বিক বিষয় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতার প্রতি সবার আস্থা ও বিশ্বাস রাখার আহ্বান জানান সালীম আহমাদ খান।